আপডেটস
বঙ্গবন্ধুকন্যাকে শুভেচ্ছা জানাতে এই ওয়েবসাইটের যাত্রা শুরু হলো। এটি এখনো নির্মাণাধীন—আগামী কিছুদিনের মধ্যে সব তথ্য যাচাই-বাছাই করে ধাপে ধাপে প্রকাশ করা হবে।
Slide 1

আমার ভাই ও বোনেরা

এশিয়া মহাদেশের সবচেয়ে সফলতম 'বৃহত্তম' ছাত্র সংগঠন 'বাংলাদেশ ছাত্রলীগ' এর পক্ষ থেকে আপনাদের সবাইকে স্বাগতম।

Slide 2

বাংলাদেশ ছাত্রলীগ

আগুনে পুড়ে খাঁটি সোনার মতো আরও শুদ্ধ হয়ে ফিরে এসেছে। ভবিষ্যতেও আরও পরিশুদ্ধ হবে ইনশাআল্লাহ্‌। মনে রাখবা, আজকের ছাত্রলীগ আগামী দিনের প্রধানমন্ত্রী, রাষ্ট্রপতি, দেশ গঠনের সহযোদ্ধা এবং রাষ্ট্র পরিচালনার দক্ষ মাঝি।

Slide 3

ফিরে আসার কারণ

দেশের মানুষের কাছে শতভাগ সত্য তুলে ধরতে, চোখে আঙ্গুল দিয়ে মিথ্যা অপপ্রচারে প্রভাবিত জনগণকে সঠিক পথের দিকে ফিরিয়ে আনতে,সোনার বাংলাদেশ এবং সোনার মানুষ গড়তে।

Slide 4

ঐক্য ও সংহতি

ধ্বংসযজ্ঞের হাত থেকে দেশের মাটি ও মানুষকে রক্ষা করতে, দল-মত নির্বিশেষে সকল দেশপ্রেমিক জনগণের সহযোগিতা ও সমর্থন কামনা করছি।

Slide 5

চ্যালেঞ্জের মধ্যেও বাংলাদেশ ছাত্রলীগ অনন্য

স্বাধীনতা-বিরোধীদের ধ্বংসযজ্ঞ ও আওয়ামী লীগ–ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের ওপর হামলা-মামলার মধ্যেও বাংলাদেশ ছাত্রলীগ আগামী ৫০ বছরের জাতীয় উন্নয়ন রোডম্যাপ প্রস্তুত করেছে। শীঘ্রই উন্মোচন হবে।

Slide 6

বাংলাদেশ ছাত্রলীগের ইনোভেশন

ইতিমধ্যে বাংলাদেশ ছাত্রলীগ জনসাধারণের জন্য ৪টি সফটওয়্যার তৈরি করেছে। এগুলো যথাসময়ে সোনার বাংলাদেশ ও সোনার মানুষ গড়ার জন্য উন্মুক্ত করা হবে।

Slide 7

ইতিহাস বলে-

বঙ্গবন্ধুর টুঙ্গিপাড়ার ভিটাবাড়ি পোড়ানোর ফসল হয়েছিল স্বাধীন বাংলাদেশ। এবার ধানমণ্ডি-৩২ পোড়ানোর ফসল হবে সোনার বাংলাদেশের সোনার মানুষ, ইনশাআল্লাহ্।

Slide 9

প্রস্তুতি গ্রহণ

চিন্তিত হওয়ার কিছু নেই। বঙ্গবন্ধু কন্যা দলকে গুছিয়ে রাজনীতি থেকে অবসর গ্রহণ করবেন। ও আমার সোনার দেশের সোনার জনসাধারণ,তোমরা প্রস্তুত হও। জ্ঞান, বুদ্ধি ,ভদ্রতা, সভ্যতা, সাহস ও নৈতিকতা নিয়ে প্রস্তুত থাকো,শত্রুর মোকাবেলা করতে হবে।

Slide 10

বঙ্গবন্ধু কন্যার ভাষণ (চুম্বক অংশ)

এবারের সংগ্রাম, স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষার সংগ্রাম । এবারের সংগ্রাম, নিরাপদ ও সম্মানজনক জীবনের অধিকার প্রতিষ্ঠার সংগ্রাম। এবারের সংগ্রাম, সভ্য, দায়িত্বশীল ও পরিশ্রমী জাতি প্রতিষ্ঠার সংগ্রাম, জয় বাংলা।

বঙ্গবন্ধুর বজ্রকণ্ঠ

ছাত্রলীগের খোলা চিঠি ও ঐতিহাসিক ৭ই মার্চের ভাষণ

বঙ্গবন্ধুর বজ্রকণ্ঠে বলছি

আমার ভাই ও বোনেরা,
তোমরা জানো, আজকের বাংলাদেশ ডুবে আছে এক ভয়ানক অন্ধকারে। চারদিকে ধ্বংসাত্মক ষড়যন্ত্রের থাবায় জাতির আশা, আত্মত্যাগ ও স্বপ্ন, সবকিছু যেন শ্বাসরুদ্ধ হয়ে পড়েছে। স্বাধীনতার দীপ্ত আলো গ্রাস করতে উঠে এসেছে পরাজিত অপশক্তির হিংস্র ছায়ারা। ছড়িয়ে পড়েছে গুজব, বিভ্রান্তি, বিশ্বাসঘাতকতা আর দেশবিরোধী ষড়যন্ত্রের বিষ ও কর্মকাণ্ড। যাদের আমরা ১৯৭১-এ পরাজিত করেছিলাম, তারাই ফিরেছে নতুন মুখোশে, নতুন মিথ্যার মোড়কে। তারা চায় জাতির শেকড় উপড়ে ফেলতে, চেতনায় বিভাজনের বিষ ঢুকিয়ে দিতে,আর স্বাধীনতার পবিত্র মূল্যবোধকে প্রশ্নবিদ্ধ করতে।

২১ ফেব্রুয়ারি, ২০২৫ | ধানমণ্ডি-৩২, ঢাকা

৭ই মার্চের ঐতিহাসিক ভাষণ

৭ই মার্চ, ১৯৭১ | রেসকোর্স ময়দান, ঢাকা

পিতা ও কন্যার অমর উত্তরাধিকার

জাতির পিতার আদর্শ ও তাঁর সুযোগ্য কন্যার নেতৃত্বে বাংলাদেশের অগ্রযাত্রা

পিতা ও কন্যা - এক অবিচ্ছেদ্য বন্ধন

বঙ্গবন্ধু ও শেখ হাসিনা

জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও তাঁর কন্যা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা

পিতার স্বপ্ন বাস্তবায়নে কন্যার অক্লান্ত প্রচেষ্টা

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর রহমান চাইলে কি পারতেন না রাজকীয় জীবন যাপন করতে? চাইলে কি পারতেন না তাঁর সন্তানদের জন্য বিদেশের নিরাপদ শহরে স্থায়ী বসবাসের সব আয়োজন করে দিতে? পারতেন,সব কিছুই পারতেন। পরিবারসহ মৃত্যুকে আলিঙ্গন করার কোনো প্রয়োজনই ছিল না , চাইলে নিশ্চিন্তে আমোদ প্রমোদে থাকতে পারতেন। পাকিস্তানের সাথে সামান্য আপস করলেই পারতেন। কিন্তু তিনি তা করেননি। তিনি সেটা না করে দুঃখী মানুষের মুক্তির পথ বেঁছে নিয়েছিলেন। তোমরা দুঃখ, কষ্ট কি সেটা তো বোঝো না, তোমাদের দাদা-দাদীদের জিজ্ঞাসা করিও। দুই বেলা ছাতু, খেসারীর রুটি, সিলমি আলুর রুটি খেয়ে জীবন যাপন করতে হতোঁ। একবেলা ভাত খাওয়াটা তখন সৌভাগ্য ছিল।

দুই যুগের দুই মহান নেতা

বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে আমরা পেয়েছি

  • স্বাধীন রাষ্ট্র ও জাতিসত্তা - ১,৪৭,৫৭০ বর্গকিলোমিটার ভূখণ্ড (প্রায় ১১ কোটি ৫ লাখ বিঘা জমির পরিমাণ)
  • বাংলা ভাষার রাষ্ট্রীয় মর্যাদা - মাতৃভাষায় কথা বলার অধিকার
  • গণতন্ত্র ও সংবিধান - স্বাধীনভাবে বাঁচার অধিকার
  • আন্তর্জাতিক সম্মান - মর্যাদা নিয়ে বাঁচার অধিকার

বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আমরা পেয়েছি

  • সমুদ্র বিজয় - ১,১৮,৮১৩ বর্গকিলোমিটার সমুদ্রসীমা (প্রায় ৮ কোটি ৮০ লাখ বিঘা)
  • শক্তিশালী অর্থনীতি - ৪৫০ বিলিয়ন ডলার (প্রায় ৫৫ ট্রিলিয়ন টাকা)
  • উন্নয়নশীল দেশের মর্যাদা - বিশ্বব্যাপী স্বীকৃতি

আগামীর নেতৃত্ব

বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ নেতৃত্বের রূপরেখা

আজকের ছাত্রলীগ আগামী দিনের—
প্রধানমন্ত্রী, রাষ্ট্রপতি, দেশ গঠনের সহযোদ্ধা এবং রাষ্ট্র পরিচালনার দক্ষ মাঝি।

আমাদের লক্ষ্য হলো শৈশব থেকে যৌবন পর্যন্ত সুপরিকল্পিত শিক্ষা, নৈতিকতা, দেশপ্রেম ও মানবিক মূল্যবোধের মাধ্যমে "সোনার মানুষ" হিসেবে গড়ে তোলা। যারা সততা, সভ্যতা, ভদ্রতা, দক্ষতা ও দায়িত্ববোধের সঙ্গে টেকসই সমাজ ও রাষ্ট্র পরিচালনায় নেতৃত্ব দেবে।

ছাত্রলীগের প্রত্যেক সদস্যকে সোনার মানুষ হিসেবে গড়ে উঠতে হলে অবশ্যই Gold ও Diamond লেভেলের বৈশিষ্ট্যসমূহ নিজেদের অন্তরে ধারণ করতে হবে এবং তা কর্মের মাধ্যমে প্রমাণ করতে হবে। এই কার্যক্রম শুরু হয়েছে জানুয়ারি ২০২৬ সাল থেকে এবং প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে ধারাবাহিকভাবে চলমান থাকবে।

প্রধানমন্ত্রী হিসেবে-

  • শেখ হাসিনা বঙ্গবন্ধুকন্যা জননেত্রী শেখ হাসিনা ১ টার্ম
  • সজীব ওয়াজেদ জয় সজীব ওয়াজেদ জয় ৩ টার্মসম্ভাব্য
  • টিউলিপ সিদ্দিক টিউলিপ সিদ্দিক ৩ টার্মসম্ভাব্য

প্রধানমন্ত্রী মানে দেশের উন্নয়ন ও সমৃদ্ধির জন্য নিবেদিত প্রাণ, জাতির অভিভাবক। আশা করা যায়, এই সময়সীমার মধ্যেই বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের মধ্য থেকেই দক্ষ, বিশ্বাসযোগ্য, ত্যাগী ও সাহসী নেতৃত্ব গড়ে তোলা সম্ভব হবে।

রাষ্ট্রপতি হিসেবে-

  • তোফায়েল আহমেদ তোফায়েল আহমেদ স্মরণে "আমরা শোকাহত, মুক্তিযুদ্ধের এই অন্যতম শ্রেষ্ঠ সংগঠককে রাষ্ট্রপতি হিসেবে না পাওয়ার জন্য।"
  • ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী সম্ভাব্য
  • সাকিব আল হাসান সাকিব আল হাসান সম্ভাব্য

আশা করা যায়, এই সময়সীমার মধ্যেই বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের মধ্য থেকেই সংবিধান সমুন্নত রাখার জন্য যোগ্য, প্রজ্ঞাবান ও দায়িত্বশীল নেতৃত্ব গড়ে তোলা সম্ভব হবে।

সাকিব আল হাসান
সাকিব ভাইয়ের প্রতি বার্তা

সাকিব ভাই, আপনাকে সামনে রেখে আমাদের একটি পরিকল্পনা ছিল, যা এখনো রয়েছে। আমরা চেয়েছিলাম, আপনাকে বাংলাদেশ ছাত্রলীগের সামনের নেতৃত্বে রেখে আমরা কাজ করবো। আমরা এতোদিন অনেককেই অবজারভেশন করেছি পাশাপাশি বেশ কিছু কাজও হয়েছে। এখন আপনাকে যে কথাটা বলতে চাচ্ছি সেটা হলো-

জাতীয় উন্নয়ন ও সংস্কার রূপরেখা২০২৫

বাংলাদেশ ছাত্রলীগ কর্তৃক প্রস্তুতকৃত আনুষ্ঠানিক রূপরেখা

সচরাচর জিজ্ঞাসা

বাংলাদেশ ছাত্রলীগ সম্পর্কে মানুষের মনের প্রশ্ন ও উত্তর

না, যায় না। ইতিহাস এর সাক্ষী।

প্রশাসনিক নিষেধাজ্ঞা একটি সংগঠনের কার্যালয় বন্ধ করতে পারে, ব্যানার নামাতে পারে, মাঠ পর্যায়ের কার্যক্রম নিষিদ্ধ করতে পারে কিন্তু ৭৮ বছরের আদর্শ, ত্যাগ, ইতিহাস ও সফলতা মুছে দিতে পারে না। কেন পারবে না, আসুন আমরা এক পলক বাংলাদেশ ছাত্রলীগের উল্লেখযোগ্য কিছু অবদান দেখে নিই -

  • ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলন ও জাতীয় পরিচয়ের বীজ বপন।
  • ১৯৫৪ সালের যুক্তফ্রন্ট নির্বাচন ও গণচেতনার উন্মেষ।
  • ১৯৫৮ সালের আইয়ুববিরোধী আন্দোলন।
  • ১৯৬২ সালের শিক্ষা আন্দোলনে নেতৃত্ব
  • ১৯৬৬ সালের ছয় দফা: বাঙালির মুক্তির সনদ।
  • ১৯৬৯ সালের গণঅভ্যুত্থানে বঙ্গবন্ধুকে বন্দীদশা থেকে মুক্ত করা।
  • ১৯৭০ সালের নির্বাচন ও স্বাধীনতার পথ প্রস্তুত করা।
  • ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ পাকিস্তানি গণহত্যার বিরুদ্ধে ছাত্রলীগের সশস্ত্র প্রতিরোধ।
  • ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে ১৭ হাজার+ নেতাকর্মীর আত্মত্যাগ এবং মুক্তিযুদ্ধকালীন ও আন্তর্জাতিক ছাত্রলীগের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা।
  • ১৯৯০ স্বৈরাচারবিরোধী গণআন্দোলনে নেতৃত্ব।
  • ২০১০-২০১৩ সালের যুদ্ধাপরাধীদের বিচার নিশ্চিতকরণে অনবদ্য ভূমিকা।
  • ২০১৮ সালের কোটাব্যবস্থা সংস্কার আন্দোলন। এই আন্দোলনে ছাত্রলীগের ভূমিকা ছিল দ্বৈত। প্রথমদিকে ছাত্রলীগের একাংশ মেধা-নির্ভর নিয়োগের পক্ষে মত দেয়, কিন্তু পরে সংগঠনটি সরকারপক্ষের নীতির প্রতি আস্থাশীল অবস্থান নেয়।
  • ২০২৪ সালের কোটাব্যবস্থা সংস্কার আন্দোলন । এই সময়ে ছাত্রলীগে অনুপ্রবেশকারী, উগ্রবাদী ও সরকারবিরোধী গোষ্ঠী আন্দোলনটিকে সহিংস করে তোলার চেষ্টা করলে ছাত্রলীগ তাদের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলে এবং দেশের স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে কার্যকর ভূমিকা রাখার চেষ্টা করলেও শেষ পর্যন্ত এই আন্দোলনটিতে ব্যর্থ হয়। যার ফলশ্রুতিতে দেশে কালো আঁধার নেমে আসে। ধ্বংসযোগ্য চলে। অনেক ছাত্রলীগ কর্মীকে হত্যা করা হয়।

শুধুমাত্র ২০২৪ এর আন্দোলন ছাড়া এতো সফল আন্দোলন ও অবদানের পরও যদি কেউ নিষিদ্ধ করতে চায় — সেটা কি সম্ভব? এটা বঙ্গবন্ধুর ছাত্রলীগ। যে সংগঠন বাংলাদেশের জন্ম দিয়েছে, সে সংগঠনের ইতিহাস মানে বাংলাদেশের ইতিহাস। আরও একটুসখানিক সহজ করে বলি সেটা হল-

বাংলাদেশ ছাত্রলীগ == বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ == বাংলাদেশের ইতিহাস
ইতিহাস সাক্ষী দেয়, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ একাধিকবার নিষিদ্ধ ও দমন হয়েছিল। প্রতিবার তারা ফিরে এসেছে আরও শক্তিশালী হয়ে। এবার শুধু শক্তিশালী হয়েই ফিরবে না বরং ফিরবে সোনার বাংলদেশ ও সোনার মানুষ বিনির্মাণ করতে।
"ছাত্রলীগের ইতিহাস মানে বাংলাদেশের ইতিহাস।" — বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান

না , পৃথিবীর ইতিহাসে এমন দ্বিতীয় কোনো সংগঠন নেই।

বিশ্বে অনেক ছাত্র সংগঠন স্বাধীনতা আন্দোলনে ভূমিকা রেখেছে যেমন- দক্ষিণ আফ্রিকার ANC Youth League বর্ণবাদের বিরুদ্ধে লড়েছে। ভারতবর্ষের তরুণরা ব্রিটিশ শাসনের বিরুদ্ধে লড়েছে। কিন্তু একই সাথে দেশের ভাষা, পরিচয় ও জন্ম তিনটাই নেতৃত্ব দিয়েছে এবং সফল হয়েছে এমন নজির পৃথিবীর ইতিহাসে নেই। এটাই বাংলাদেশ ছাত্রলীগের অনন্যতা, এটাই তার গৌরব।

ছাত্রলীগ মানে শুধু সংগঠন নয় — একটি আদর্শ, একটি প্রতিশ্রুতি, একটি ইতিহাস।

যে সংগঠন যত শক্তিশালী, তার বিরুদ্ধে প্রতিপক্ষও তত সক্রিয় থাকে। যে গাছ যত বড় হয়, তার ফল খেতে তত বেশি মানুষ আসে — কেউ আসে ভালোবেসে, কেউ আসে সুযোগ নিতে। উপমহাদেশের সবচেয়ে পুরোনো ও সবচেয়ে সফল রাজনৈতিক শক্তি বলেই বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগকে ঘিরে ষড়যন্ত্রও সবচেয়ে বেশি।

⚫ বাইরের ষড়যন্ত্র —

১৯৭১-এ যারা পরাজিত হয়েছিল, সেই স্বাধীনতাবিরোধী শক্তি আজও এই পরাজয় মেনে নিতে পারেনি। মাঠে না পারলে তারা প্রোপাগান্ডায় নামে — ইতিহাস বিকৃত করে, নতুন প্রজন্মকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করে।

⚫ ভেতরের বিশ্বাসঘাতকতা —

প্রতিটি বড় সংগঠনের মতোই সুযোগসন্ধানীরা ভেতরে ঢোকার চেষ্টা করে, কখনো সাময়িকভাবে সফলও হয়। কিন্তু ইতিহাস সাক্ষী — বিশ্বাসঘাতকতা ক্ষতি করতে পারলেও সংগঠনকে কখনো শেষ করতে পারেনি।

নিষিদ্ধ হয়েছে, নিষেধাজ্ঞা এসেছে, নেতৃত্ব হারাতে হয়েছে বারবার — তবু আদর্শের শক্তি কোনো নিষেধাজ্ঞায় দমানো যায়নি। ভূগর্ভে, পর্দার আড়ালে, মানুষের হৃদয়ে সংগঠন টিকে থেকেছে। ৯০-এর গণঅভ্যুত্থানে আবার প্রকাশ্যে এসে জাতিকে নেতৃত্ব দিয়েছে।

যে সংগঠনের শিকড় মানুষের হৃদয়ে প্রোথিত — তাকে কোনো ষড়যন্ত্র বা বিশ্বাসঘাতকতা চিরদিনের জন্য উপড়ে ফেলতে পারে না।

না। বাংলাদেশ ছাত্রলীগ কোনো দল বা মানুষকে শত্রু মনে করে না। এই দেশের প্রতিটি নাগরিক যে দলেই থাকুক তারা আমাদের সহযাত্রী। মতের পার্থক্য থাকতে পারে, কিন্তু দেশের প্রতি ভালোবাসায় কোনো পার্থক্য নেই।

তবে একটি কথা স্পষ্ট — মুক্তিযুদ্ধবিরোধী মানসিকতা, স্বাধীনতার চেতনাকে যারা অস্বীকার করে ,বঙ্গবন্ধু ও জাতীয় চার নেতা এবং ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে শহীদ ৩০ লক্ষ বীর সন্তান, ২ লক্ষ মা-বোনের সম্ভ্রম কে যারা অসন্মান করে তাদের রাজনীতিকে আমরা প্রত্যাখ্যান করি এবং তাদেরকে রাজাকার রোহিঙ্গা বলি।

এটা কোনো ব্যক্তির বিরুদ্ধে নয় ,এটা একটি আদর্শের বিরুদ্ধে অবস্থান।

না। এটা আদৌও সঠিক না।

ছাত্রলীগের নামের আড়ালে যারা ঢুকেছিল বা ছাত্রলীগে অনুপ্রবেশকারীরাই হল গুন্ডাবাহিনী" বা "হেলমেটবাহিনী" , "ধর্ষণকারী", সহিংসতাকারী। এরা নানা রকমের অপরাধমূলক কাজকর্ম করে আর দোষ হয় বাংলাদেশ ছাত্রলীগের। এদের ৮০ শতাংশ+ হল শিবিরের কর্মী। নিচে কিছু ভিডিও লিঙ্ক দিয়ে দিচ্ছি , ওদের কার্যক্রম দেখলে ওরদেরকে বুঝতে পারবেন ওরা কি জিনিস। ভয়ংকর রকমের বিষধর সাপ যারা ছাত্রলীগের ছায়ার তলে রাজনীতি করে গেছে। কেউ বুঝতেও পারেনি। এসব অনুপ্রবেশকারীদের চিহ্নিত না করতে পারাটা ছাত্রলীগের সাংগঠনিক ব্যর্থতা বলে মনে করি।

👉 ভিডিও লিঙ্কঃ —
  • লিঙ্ক-১: শিগ্রই আসছে ।
  • লিঙ্ক-১: শিগ্রই আসছে ।
ছাত্রলীগের নাম ভাঙিয়ে যারা অপকর্ম করেছে,তাদের অধ্যায় শেষ। সামনে নতুন দিনের ছাত্রলীগ হবে সোনার মানুষ গড়ার ছাত্র সংগঠন।

শুধুমাত্র বর্তমান নয় ভবিষ্যতেও একজন সভ্য, মেধাবী, পরিশ্রমী ও নীতিবান তরুণ/তরুণীর উচিত বাংলাদেশ ছাত্রলীগ-এর মতো একটি সফল সংগঠনের সাথে যুক্ত হয়ে নিজেকে “সোনার মানুষ” হিসেবে গড়ে তোলা এবং দেশ, পরিবার ও সমাজের কল্যাণে ভূমিকা রাখা।

বর্তমানে ছাত্রলীগ যে যুগোপযোগী কাঠামো ও দিকনির্দেশনা গ্রহণ করেছে, তা অনুসরণ করলে একজন শিক্ষার্থী ধাপে ধাপে নিজের চরিত্র, শৃঙ্খলা, অধ্যবসায় ও দক্ষতা উন্নয়ন করতে পারে। স্কুল ও কলেজ পর্যায়ে এই প্রস্তুতি একজন শিক্ষার্থীকে সোনার মানুষ তৈরির ভিত্তি তৈরি করে দেবে এবং বাংলাদেশ ছাত্রলীগ সংগঠনে সংযুক্ত হওয়ার যোগ্যতা অর্জন করতে পারবে।

👉 প্রকৃত লাভ হলো:

নিজেকে ধাপে ধাপে সোনার মানুষ হিসেবে গড়ে তোলা যার মধ্যে থাকবে নৈতিকতা, নেতৃত্ব, দায়িত্ববোধ ও কাজ করার সক্ষমতা। যার ফলে একজন তরুণ/তরুণী নিজের যোগ্যতা ও দক্ষতার ভিত্তিতে চাকরি, ব্যবসা বা উচ্চশিক্ষাসহ যে কোনো ক্ষেত্রে এগিয়ে যাওয়ার আত্মবিশ্বাস ও প্রস্তুতি অর্জন করতে পারবে — আর এই যাত্রায় বাংলাদেশ ছাত্রলীগ তাদের পাশে থেকে সর্বাত্মক সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেবে।

জানুয়ারি ২০২৬ থেকে শুরু হওয়া এই কার্যক্রম প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে চলমান থাকবে।

জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের হাতে গড়ে ওঠা বাংলাদেশ ছাত্রলীগ সোনার বাংলা প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে ঐতিহাসিক ভূমিকা পালন করেছে। বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলা গড়ার দর্শনের মূল শক্তি হলো সোনার মানুষ — তাই রাষ্ট্র গড়ার আগে নিজেদের সততা, নৈতিকতা, পরিশ্রম, দক্ষতা ও দায়িত্ববোধে উন্নত মানুষ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করাই এই কার্যক্রমের মূল লক্ষ্য।

👉 অভিন্ন নৈতিক পরিচয় ও তিনটি দায়িত্বধারা —
  • Gold — সততা, নৈতিকতা, পরিশ্রম, দক্ষতা ও দায়িত্ববোধের গুণাবলি অর্জন ও কর্মে প্রমাণ করলেই একজন মানুষ "সোনার মানুষ"।
  • Gold + Diamond — রাষ্ট্র পরিচালনার নেতৃত্বের সক্ষমতা নির্দেশ করে।
  • Gold + Diamond + Platinum — গবেষণা, বিশেষজ্ঞ জ্ঞান ও কৌশলগত দায়িত্বের সক্ষমতা নির্দেশ করে।
এগুলো মর্যাদার শ্রেণিবিন্যাস নয় — ভিন্ন দায়িত্ব পালনের প্রস্তুতি। জানুয়ারি ২০২৬ থেকে শুরু হওয়া এই কার্যক্রম প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে চলমান থাকবে।

তুমি বঙ্গবন্ধুকে ভালোবাসো, তাঁর আদর্শকে ভালোবাসো — মানে তুমি বাই ডিফল্ট ছাত্রলীগ। এর জন্য সংগঠনের সদস্য হওয়া লাগে না।

তুমি কাজ করবে, কাজ দেখাবে — সংগঠন তোমাকে সাদরে গ্রহণ করবে। সংগঠনের অনেকেই সদস্য হতে পারে, কিন্তু আদর্শই প্রকৃত ছাত্রলীগ নির্ধারণ করে।

ছাত্রলীগে যোগদান করা মানে তোমার প্রাণ দেশের জন্য দিয়ে দেওয়া। এই সাহস থাকলে তোমাকে পিছনে ফিরে তাকাতে হবে না।

বাংলাদেশ ছাত্রলীগ দুর্বার, অপ্রতিরোধ্য। এদের কার্যক্রম থামিয়ে রাখা যায় না।

যেহেতু এখন মঞ্চ নেই, তাই মানুষের হৃদয়কে মঞ্চ বানিয়ে সামনের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। তারা ইতিহাস ঘাটছে, পড়ছে, মিথ্যা প্রোপাগান্ডার জবাব দিচ্ছে, মানুষের পাশে দাঁড়াচ্ছে।

বাংলাদেশ ছাত্রলীগ এমন কিছু করতে যাচ্ছে যা বাংলাদেশের ইতিহাসে স্বর্ণাক্ষরে লেখা থাকবে।

এ ধরনের জঘন্য ঘটনা যে ঘটবে কেউ কল্পনাও করেনি, স্বপ্নেও ভাবেনি। ধানমণ্ডি-৩২ কোনো সাধারণ বাড়ি নয়—এটা বাংলার আত্মা, হৃদয়ের স্পন্দন, বাঙালির আবেগ, বাঙালির অস্তিত্ব! এখানেই রচিত হয়েছিল মুক্তির মহাকাব্য যেখানে স্বাধীনতার স্বপ্ন বুনেছিলেন জাতির পিতা। এখানেই প্রতিধ্বনিত হয়েছিল স্বাধীনতার ঘোষণার প্রথম শব্দ। আগুনের লেলিহান শিখা হয়তো ভস্ম করে দিতে পারে, বুলডোজার হয়তো কাঠামো গুঁড়িয়ে দিতে পারে কিন্তু বাংলার মানুষের হৃদয়ে থেকে ধানমণ্ডি-৩২ এর অস্তিত্ব ধ্বংস করা যায় না, মুছে ফেলা যায় না! ধানমণ্ডি-৩২ থাকবে চিরজীবন্ত, চিরঅমর!

যে ধানমণ্ডি-৩২ থেকে বাংলাদেশ সৃষ্টির ডাক এসেছে — সেই বাড়ি ভেঙে পোড়ানোর পর আওয়ামী লীগ পরিবারের হারানোর আর কিছু বাকি থাকে না। তাছাড়া লক্ষাধিক কর্মীকে জেলে রাখা হয়, অনেককে হত্যা করা হয়। এতো ধরপাকড়ের মধ্যে আন্দোলন দেওয়াটা সমীচীন মনে করা হয়নি।

আওয়ামী পরিবার ভিন্নপথে হাঁটছে। ব্যাকগ্রাউন্ডে প্রচুর কাজ চলছে — এটা অবিশ্বাস্য হলেও সত্য।

এটা সম্পূর্ণ নির্ভর করছে বিএনপির কার্যক্রম ও রাজনৈতিক দায়িত্বশীলতার ওপর।

বাংলাদেশ ছাত্রলীগ মনে করে — ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন বাংলাদেশ স্বাধীনতার নেতৃত্বদানকারী দলকে বাইরে রেখে হলে তা গ্রহণযোগ্য হতে পারে না।

ইতিহাস বলে — যে নির্বাচনে মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের শক্তি নেই, সেই নির্বাচন বাংলাদেশের মানুষ মেনে নেয়নি।

না, বিএনপি আওয়ামী পরিবারের ওপর নিষেধাজ্ঞা তুলে নেবে না। তারা হয়তো কিছু কার্যালয় খুলে দিতে বাধা দেবে না, কিছু সাধারণ কর্মীকে জামিন দেবে, কিছু ছোট ছোট আন্দোলন করতে দেবে যেন মানুষকে বোঝাতে পারে আমরা তো গণতান্ত্রিক পথেই হাঁটতেছি। এগুলো জাস্ট "আই ওয়াশ" ছাড়া কিছুই না।

যা কাজ করার — আওয়ামী পরিবারকেই সূক্ষ্মভাবে করতে হবে। নিজের পথ নিজেই তৈরি করতে হবে।

প্রতিটি সংগঠনের ত্রুটিবিচ্যুতি থাকে। বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগেরও ভুল ছিল।

🔴 আওয়ামী লীগের ক্ষেত্রে —

স্বাধীনতাবিরোধী ও তেলবাজদের অনুপ্রবেশের পর "মুজিব বন্দনার" মধ্যে যে ষড়যন্ত্র ছিল তা বিশ্লেষণ করা হয়নি। ভাস্কর্য তৈরির আগে ভাস্কর্য রক্ষায় সোনার মানুষ তৈরি করা উচিত ছিল।

🔴 ছাত্রলীগের ক্ষেত্রে —

২০১৬ সালের পর থেকে গুপ্ত/সুপ্ত লীগের প্রবেশ ঘটে — যাদেরকে আমরা গুপ্ত লীগ, হেলমেট বাহিনী বলি। এদেরকে সঠিকভাবে শনাক্ত না করতে পারাটা সবচেয়ে বড় ব্যর্থতা।

এই ভুলগুলো স্বীকার করেই আমরা সামনে এগোচ্ছি । বাদ বাকি আল্লাহ্‌ ভরসা

এই পেজটি শেয়ার করুন