আপডেটস
বাংলাদেশের পূর্ণাঙ্গ মুক্তিযুদ্ধ আর্কাইভ

মহান মুক্তিযুদ্ধ একটি জাতির আত্মপরিচয় অর্জনের ইতিহাস

১৯৪৭ সালে পাকিস্তান প্রতিষ্ঠার পর বৈষম্য ও দমন-পীড়নের বিরুদ্ধে বাঙালির অধিকার আদায়ের দীর্ঘ সংগ্রাম ১৯৭১ সালে রূপ নেয় সশস্ত্র মুক্তিযুদ্ধে। দীর্ঘ নয় মাসের রক্তক্ষয়ী জনযুদ্ধ ও অসীম আত্মত্যাগের মধ্য দিয়ে পৃথিবীর বুকে জন্ম নেয় স্বাধীন-সার্বভৌম বাংলাদেশ।

71
২৬ মার্চস্বাধীনতা দিবস
১৬ ডিসেম্বরবিজয় দিবস
৯ মাসসশস্ত্র মুক্তিযুদ্ধ
১১ সেক্টরসমন্বিত রণাঙ্গন
জনযুদ্ধসর্বস্তরের মানুষের অংশগ্রহণ
১৬ ডিসেম্বরচূড়ান্ত বিজয় · ১৯৭১
ইন্টারঅ্যাকটিভ মুক্তিযুদ্ধ আর্কাইভ

অধিকার থেকে স্বাধীনতা—মহান মুক্তিযুদ্ধের বহুমাত্রিক পাঠ

১৯৪৭-এর বৈষম্যমূলক রাষ্ট্রকাঠামো থেকে ১৯৭১-এর জনযুদ্ধ ও বিজয়, এরপর স্বাধীন বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি—আটটি বিষয়ভিত্তিক অধ্যায়ে অনুসরণ করুন নেতৃত্ব, রণাঙ্গন, আত্মত্যাগ, দলিল, বিশ্বসমর্থন ও উত্তরাধিকারের ধারাবাহিক ইতিহাস।

01

অধিকার থেকে স্বাধীনতার আকাঙ্ক্ষা

ভাষা, সংস্কৃতি, অর্থনীতি ও রাজনৈতিক অধিকারের প্রশ্নে পশ্চিম পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠীর বৈষম্য বাঙালির স্বাধিকার আন্দোলনকে ধাপে ধাপে স্বাধীনতার লক্ষ্যে নিয়ে যায়।

১৯৭০ সালের নির্বাচনে নিরঙ্কুশ গণরায় উপেক্ষা এবং ক্ষমতা হস্তান্তরে অস্বীকৃতি রাজনৈতিক সংকটকে চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছে দেয়।

ভাষা আন্দোলন

মাতৃভাষার মর্যাদার সংগ্রাম বাঙালি জাতীয়তাবোধের শক্ত ভিত গড়ে দেয়।

ছয় দফা দাবি

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ছয় দফা বাঙালির রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক মুক্তির সনদে পরিণত হয়।

গণঅভ্যুত্থান

ছাত্র-জনতার সম্মিলিত আন্দোলন সামরিক স্বৈরশাসনের ভিত কাঁপিয়ে দেয়।

ঐতিহাসিক নির্বাচন

আওয়ামী লীগ পাকিস্তানের জাতীয় পরিষদে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে; বাঙালির গণরায় স্পষ্ট হয়ে ওঠে।

মুক্তির সংগ্রামের নির্দেশনা

রেসকোর্স ময়দানে বঙ্গবন্ধুর ঐতিহাসিক ভাষণ জাতিকে সর্বাত্মক প্রস্তুতি ও প্রতিরোধের পথে ঐক্যবদ্ধ করে।

স্বাধীনতার ঘোষণা

২৫ মার্চের গণহত্যা শুরু হওয়ার পর, গ্রেফতারের আগে ২৬ মার্চের প্রথম প্রহরে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষণা করেন এবং সর্বাত্মক প্রতিরোধ গড়ে তোলার আহ্বান জানান। ঘোষণাটি ওয়্যারলেসের মাধ্যমে দেশে-বিদেশে ছড়িয়ে পড়ে।

স্বাধীনতার পথের আরও গুরুত্বপূর্ণ বাঁক
অসম রাষ্ট্রকাঠামোর সূচনা

ভৌগোলিক বিচ্ছিন্নতা, ক্ষমতার কেন্দ্রীকরণ এবং ভাষা-অর্থনীতিতে বৈষম্য পূর্ব বাংলায় বঞ্চনার বোধ গভীর করে।

রাষ্ট্রভাষার দাবির সূচনা ও সংগঠিত আন্দোলন

১৯৪৭ সালে তমদ্দুন মজলিসের পুস্তিকা, ছাত্রসমাবেশ ও রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ গঠনের মধ্য দিয়ে দাবির ভিত্তি তৈরি হয়। ১৯৪৮ সালে ধীরেন্দ্রনাথ দত্তের গণপরিষদে প্রস্তাব এবং ১১ মার্চের ধর্মঘটের মাধ্যমে আন্দোলন বিস্তৃত ও সংঘবদ্ধ রূপ নেয়।

ভাষা আন্দোলনের চূড়ান্ত ও রক্তাক্ত পর্ব

২১ ফেব্রুয়ারি রাষ্ট্রভাষা বাংলার দাবিতে ছাত্ররা ১৪৪ ধারা ভাঙলে পুলিশ গুলি চালায়। বরকত, রফিক, জব্বার, সালাম ও শফিউরসহ ভাষাশহীদদের আত্মত্যাগ আন্দোলনকে চূড়ান্ত গণজাগরণে রূপ দেয়।

যুক্তফ্রন্টের গণরায়

প্রাদেশিক নির্বাচনে যুক্তফ্রন্টের বিজয় পূর্ব বাংলার স্বায়ত্তশাসন ও অধিকারকেন্দ্রিক রাজনৈতিক আকাঙ্ক্ষাকে স্পষ্ট করে।

বাংলার রাষ্ট্রভাষার স্বীকৃতি

পাকিস্তানের সংবিধানে বাংলা রাষ্ট্রভাষার মর্যাদা পেলেও কেন্দ্রীয় ক্ষমতা ও অর্থনৈতিক বৈষম্যের প্রশ্ন অমীমাংসিত থাকে।

সামরিক শাসন

আইয়ুব খানের সামরিক শাসন গণতান্ত্রিক রাজনীতি সংকুচিত করে এবং কেন্দ্রীয় কর্তৃত্বের বিরুদ্ধে পূর্ব বাংলার ক্ষোভ বাড়ায়।

শিক্ষা আন্দোলন

শরীফ শিক্ষা কমিশনের বৈষম্যমূলক প্রস্তাবের বিরুদ্ধে ছাত্রসমাজের আন্দোলন বৃহত্তর গণসংগ্রামের ভিত শক্ত করে।

যুদ্ধ ও নিরাপত্তাহীনতার উপলব্ধি

ভারত–পাকিস্তান যুদ্ধ পূর্ব পাকিস্তানের প্রতিরক্ষা দুর্বলতা প্রকাশ করে; স্বায়ত্তশাসন ও নিজস্ব নিরাপত্তাব্যবস্থার দাবি জোরালো হয়।

আগরতলা মামলা

বঙ্গবন্ধুসহ বাঙালি সামরিক-বেসামরিক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে মামলা গণপ্রতিরোধকে তীব্র করে; গণঅভ্যুত্থানে মামলা প্রত্যাহার হয়।

এগারো দফা ও গণঅভ্যুত্থান

ছাত্রসমাজের এগারো দফা ছয় দফাকে শ্রমিক–কৃষক–শিক্ষার দাবির সঙ্গে যুক্ত করে; গণঅভ্যুত্থানে আইয়ুব শাসনের পতন ঘটে।

ঘূর্ণিঝড় ও রাষ্ট্রীয় ব্যর্থতা

ভয়াবহ ঘূর্ণিঝড়ে উপকূলের বিপুল প্রাণহানি এবং কেন্দ্রীয় সরকারের ধীর প্রতিক্রিয়া পূর্ব বাংলার প্রতি অবহেলার অনুভূতিকে আরও তীব্র করে।

অসহযোগ আন্দোলন

জাতীয় পরিষদের অধিবেশন স্থগিত হলে পূর্ব বাংলাজুড়ে প্রতিবাদ ও অসহযোগ শুরু হয়; কার্যত বঙ্গবন্ধুর নির্দেশে প্রশাসন পরিচালিত হতে থাকে।

দমন থেকে সশস্ত্র প্রতিরোধ

আলোচনা চলাকালেই পাকিস্তানি সামরিক বাহিনীর পরিকল্পিত অভিযান বাঙালির স্বাধীনতার সংগ্রামকে চূড়ান্ত যুদ্ধে রূপ দেয়।

রাষ্ট্রভাষা থেকে স্বাধীনতা: ছাত্রলীগের সংগ্রামী ধারাবাহিকতা

প্রতিষ্ঠাকালে সংগঠনটির নাম ছিল ‘পূর্ব পাকিস্তান মুসলিম ছাত্রলীগ’; পরে নাম থেকে ‘মুসলিম’ শব্দটি বাদ দেওয়া হয়। প্রতিটি পর্ব ছিল বিভিন্ন ছাত্রসংগঠন, রাজনৈতিক শক্তি এবং ছাত্র–শ্রমিক–কৃষক–জনতার সম্মিলিত সংগ্রাম; সেই বৃহত্তর প্রেক্ষাপটে এখানে ছাত্রলীগের নথিভুক্ত নিজস্ব ভূমিকা তুলে ধরা হয়েছে।

ভাষা আন্দোলন

পূর্ব পাকিস্তান মুসলিম ছাত্রলীগ তমদ্দুন মজলিস, অন্যান্য ছাত্র–রাজনৈতিক সংগঠন ও হল প্রতিনিধিদের সঙ্গে রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদের কার্যক্রমে যুক্ত হয়। ১১ মার্চের ধর্মঘট, মিছিল ও পিকেটিংয়ে সংগঠনটির নেতা-কর্মীরা অংশ নেন; শেখ মুজিবুর রহমানসহ বহু আন্দোলনকারী গ্রেপ্তার হন। ১৯৫২-এর চূড়ান্ত পর্বেও ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীরা সর্বদলীয় কর্মসূচিতে সক্রিয় ছিলেন।

গণতন্ত্র ও শিক্ষার অধিকার

যুক্তফ্রন্টের নির্বাচনী প্রচার ও সামরিক শাসনবিরোধী ছাত্রআন্দোলনের ধারায় ছাত্রলীগ সক্রিয় থাকে। ১৯৬২ সালে ছাত্র ইউনিয়নসহ অন্যান্য ছাত্রসংগঠনের সঙ্গে শরীফ শিক্ষা কমিশনের বৈষম্যমূলক প্রস্তাবের বিরুদ্ধে আন্দোলনে অংশ নেয়।

ছয় দফার পক্ষে ছাত্রসমাজ

বঙ্গবন্ধুর ছয় দফার পক্ষে প্রচার ও ছাত্রসমাজকে সংগঠিত করতে ছাত্রলীগ ভূমিকা রাখে। ৭ জুন আওয়ামী লীগের ডাকা প্রদেশব্যাপী ধর্মঘটে ছাত্রলীগ অংশ নেয়; শ্রমিক ও সাধারণ মানুষও কর্মসূচিতে যুক্ত হন।

এগারো দফা ও গণঅভ্যুত্থান

ছাত্রলীগ, ছাত্র ইউনিয়নসহ প্রগতিশীল ছাত্রসংগঠনগুলো কেন্দ্রীয় ছাত্র সংগ্রাম পরিষদ গঠন করে ছয় দফাভিত্তিক এগারো দফা ঘোষণা করে। ছাত্র–শ্রমিক–জনতার গণআন্দোলনের চাপে আগরতলা মামলা প্রত্যাহার এবং শেখ মুজিবুর রহমানসহ রাজবন্দিদের মুক্তির পথ তৈরি হয়।

গণরায়ের পক্ষে সংগঠন

জাতীয় ও প্রাদেশিক পরিষদ নির্বাচনে ছয় দফাভিত্তিক কর্মসূচির পক্ষে প্রচার, গণসংযোগ ও ছাত্র–যুবসমাজকে সংগঠিত করতে ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীরা অংশ নেন; নির্বাচনে বাঙালির নিরঙ্কুশ গণরায় প্রকাশিত হয়।

স্বাধীনতার প্রস্তুতি

ছাত্রলীগ ও ডাকসু নেতৃত্বের সমন্বয়ে স্বাধীন বাংলা কেন্দ্রীয় ছাত্র সংগ্রাম পরিষদ গঠিত হয়। ২ মার্চ আ স ম আবদুর রব পতাকা উত্তোলন করেন, ৩ মার্চ ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক শাহজাহান সিরাজ স্বাধীনতার ইশতেহার পাঠ করেন এবং ২৩ মার্চ ঘরে ঘরে বাংলাদেশের পতাকা ওড়ানোর কর্মসূচি দেওয়া হয়।

সশস্ত্র ও সাংগঠনিক অংশগ্রহণ

ছাত্রলীগের বহু নেতা-কর্মী মুক্তিবাহিনীর সেক্টর, স্থানীয় ও গেরিলা ইউনিটে যুদ্ধে অংশ নেন। শেখ ফজলুল হক মনি, সিরাজুল আলম খান, আবদুর রাজ্জাক ও তোফায়েল আহমেদ মুজিব বাহিনীর সংগঠক ছিলেন; পাশাপাশি ছাত্র, কৃষক, শ্রমিক, রাজনৈতিক কর্মী, বাঙালি সেনা, ইপিআর ও পুলিশসহ বিভিন্ন শক্তি সম্মিলিত মুক্তিযুদ্ধে অংশ নেয়।

কেন স্বাধীনতা অনিবার্য হয়ে উঠেছিল

১৯৪৭–৭১-এর সংকট কোনো এক দিনের ঘটনা নয়। রাষ্ট্রক্ষমতা, সম্পদ, নিরাপত্তা, ভাষা ও প্রতিনিধিত্বে দীর্ঘ বৈষম্য বাঙালির স্বায়ত্তশাসনের দাবিকে স্বাধীনতার আন্দোলনে রূপ দেয়।

রাজনৈতিক ক্ষমতা
সংখ্যাগরিষ্ঠ হয়েও প্রান্তিক

পাকিস্তানের জনসংখ্যায় পূর্ব বাংলার সংখ্যাগরিষ্ঠতা থাকলেও কেন্দ্রীয় রাষ্ট্রক্ষমতা ও নীতিনির্ধারণ দীর্ঘদিন পশ্চিম পাকিস্তানকেন্দ্রিক ছিল।

অর্থনীতি
আয় পূর্বে, বিনিয়োগে বৈষম্য

পাটসহ পূর্বাঞ্চলের রপ্তানি আয় কেন্দ্রীয় অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ হলেও শিল্প, অবকাঠামো ও সরকারি ব্যয়ে অসমতা বঞ্চনা গভীর করে।

প্রশাসন ও প্রতিরক্ষা
প্রতিনিধিত্ব ও নিরাপত্তার ঘাটতি

কেন্দ্রীয় আমলাতন্ত্র ও সামরিক নেতৃত্বে বাঙালির অংশগ্রহণ সীমিত ছিল; ১৯৬৫ সালের যুদ্ধ পূর্বাঞ্চলের নিরাপত্তাহীনতাও প্রকাশ করে।

ভাষা ও সংস্কৃতি
পরিচয়ের ওপর রাষ্ট্রীয় চাপ

উর্দুকে একমাত্র রাষ্ট্রভাষা করার উদ্যোগ এবং বাঙালি সংস্কৃতির ওপর নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা ভাষা আন্দোলন থেকে জাতীয়তাবাদকে শক্তিশালী করে।

ছয় দফা: স্বাধিকারের সাংবিধানিক রূপরেখা

১৯৬৬ সালের ছয় দফা ছিল পূর্ব পাকিস্তানের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক স্বায়ত্তশাসনের সুস্পষ্ট কর্মসূচি; পরবর্তী গণআন্দোলনের কেন্দ্রীয় ভিত্তি।

দফা ১
ফেডারেল ও সংসদীয় শাসন

সর্বজনীন ভোটে নির্বাচিত আইনসভার সার্বভৌমত্ব এবং প্রকৃত ফেডারেল সংসদীয় কাঠামোর দাবি।

দফা ২
কেন্দ্রের সীমিত এখতিয়ার

প্রতিরক্ষা ও পররাষ্ট্র ছাড়া অন্যান্য বিষয় ফেডারেশনের অঙ্গরাজ্যের হাতে রাখার প্রস্তাব।

দফা ৩
মুদ্রা ও মূলধন সুরক্ষা

দুই অঞ্চলের জন্য পৃথক মুদ্রা অথবা মূলধন পাচার ঠেকাতে কার্যকর সাংবিধানিক ব্যবস্থা।

দফা ৪
কর ও রাজস্বের ক্ষমতা

কর আরোপ ও রাজস্ব সংগ্রহের ক্ষমতা অঙ্গরাজ্যের হাতে; কেন্দ্র নির্ধারিত অংশ পাবে।

দফা ৫
বৈদেশিক মুদ্রা ও বাণিজ্য

দুই অঞ্চলের বৈদেশিক মুদ্রার পৃথক হিসাব এবং বিদেশি বাণিজ্যে প্রাদেশিক অধিকার।

দফা ৬
পূর্ব পাকিস্তানের নিরাপত্তা

পূর্ব পাকিস্তানের জন্য পৃথক মিলিশিয়া বা আধাসামরিক বাহিনী গঠনের দাবি।

অগ্নিঝরা মার্চ: দিন থেকে ইতিহাস

১৯৭১-এর মার্চে অসহযোগ, পতাকা, রাজনৈতিক নির্দেশনা ও জনতার প্রতিরোধ—মাত্র ২৬ দিনের মধ্যে স্বাধীনতার সংগ্রামকে সশস্ত্র মুক্তিযুদ্ধে পৌঁছে দেয়।

অধিবেশন স্থগিত

জাতীয় পরিষদের অধিবেশন অনির্দিষ্টকালের জন্য স্থগিত হলে পূর্ব বাংলাজুড়ে বিক্ষোভ ও অসহযোগের সূচনা হয়।

স্বাধীন বাংলার পতাকা

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বটতলায় ছাত্রনেতা আ স ম আবদুর রব মানচিত্রখচিত পতাকা উত্তোলন করেন।

স্বাধীনতার ইশতেহার

পল্টন ময়দানের ছাত্র-জনসভায় শাহজাহান সিরাজ স্বাধীনতার ইশতেহার পাঠ করেন।

জাতির নির্দেশনা

বঙ্গবন্ধুর ভাষণ ঘরে ঘরে দুর্গ গড়ে তোলা এবং মুক্তি ও স্বাধীনতার সংগ্রামের প্রস্তুতি নেওয়ার আহ্বান জানায়।

প্রতিরোধ দিবস

পাকিস্তান দিবসে পূর্ব বাংলার সর্বত্র মানচিত্রখচিত লাল-সবুজ পতাকা উড়িয়ে সার্বভৌম আকাঙ্ক্ষা প্রকাশ করা হয়।

কালরাত্রি

অপারেশন সার্চলাইটে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, রাজারবাগ ও পিলখানাসহ বহু স্থানে হত্যাযজ্ঞ শুরু হয়।

স্বাধীনতার ঘোষণা

গ্রেফতারের আগে প্রথম প্রহরে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষণা করেন এবং সর্বাত্মক প্রতিরোধের আহ্বান জানান; ঘোষণাটি ওয়্যারলেসে ছড়িয়ে পড়ে।

মুক্তিযুদ্ধের আদর্শ

স্বাধীনতার ভিত্তি,
ভবিষ্যতের অঙ্গীকার

১৯৭১ সালের স্বাধীনতার ঘোষণাপত্রে সাম্য, মানবিক মর্যাদা ও সামাজিক ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার প্রত্যয় ব্যক্ত হয়। মুক্তিযুদ্ধের আদর্শ তাই শুধু অতীতের স্মৃতি নয়—স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষা, মানুষের অধিকার ও মর্যাদা প্রতিষ্ঠা এবং বৈষম্যহীন মানবিক বাংলাদেশ গড়ার চলমান অঙ্গীকার।

সাম্যসকল মানুষের সমান অধিকার
মানবিক মর্যাদাপ্রতিটি মানুষের প্রতি সম্মান
সামাজিক ন্যায়বিচারন্যায্য ও বৈষম্যহীন সমাজ
আমাদের সম্মিলিত অঙ্গীকারইতিহাসের প্রতি শ্রদ্ধা · ভবিষ্যতের প্রতি দায়িত্ব
স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের মর্যাদা অক্ষুণ্ণ রাখা
গণতন্ত্র, মানবাধিকার, আইনের শাসন ও সংবিধানস্বীকৃত মতপ্রকাশের স্বাধীনতা সমুন্নত রাখা
নারী–পুরুষের সমঅধিকার এবং ধর্ম, ভাষা, জাতিসত্তা ও পরিচয় নির্বিশেষে সকলের সমান মর্যাদা নিশ্চিত করা
শহীদদের স্মৃতি, বীর মুক্তিযোদ্ধাদের অবদান ও মুক্তিযুদ্ধের প্রামাণ্য ইতিহাস সংরক্ষণ এবং নতুন প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দেওয়া

ঐতিহাসিক ও সাংবিধানিক ভিত্তি

অঙ্গীকারগুলো উল্লিখিত নীতির আলোকে সহজ ভাষায় উপস্থাপিত; সরাসরি উদ্ধৃতি নয়। স্মৃতি ও ইতিহাস সংরক্ষণের অঙ্গীকারটি এই আর্কাইভের নিজস্ব উদ্দেশ্য।

এই পেজটি শেয়ার করুন