সাধারণত বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে ছাত্রলীগ থেকেই নেতৃত্ব তৈরি হয়।
কিন্তু আপনি ক্রিকেট ব্যাকগ্রাউন্ড থেকে এসে, ছাত্রলীগের সাথে সরাসরি সম্পৃক্ত না থেকেও
দল থেকে এমপি মনোনয়ন পেয়েছেন যা একটি ব্যতিক্রমী উদাহরণ। এর কারণটাও কারোর অজানা না। আর, আপনাকে পেয়ে আমরা উচ্ছ্বাসিত।
স্বাধীনতা বিরোধী অপশক্তিরা চেয়েছিল কোন ভাবেই যেন আপনি আওয়ামী পন্থী না হোন। একারণে আপনাকে মানুষের কাছে যত রকমের ছোট করা যায় করেছে। তারা বলেছে , আপনি টাকা ছাড়া কিছু বোঝেন না। আপনি অর্থ আত্মসাৎ করেছেন, জালিয়াতি করেছেন, মানি লন্ডারিং করেছেন এমনকি আপনি নাকি খুনও করেছেন। ভাবা যায় ! এছাড়া আরও কত শত অ্যালিগেশনস। কিন্তু নিরপেক্ষ বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, আপনার সতীর্থরাই বলেছেন বারংবার আপনি মানবিক, পরোপকারী। এতো রকমের ছোট করার কারণ হলো মানুষের অন্তরে ঘৃণার পাত্র করে তোলা। আপনি যখন আওয়ামী ব্যানারে সামনে থাকবেন তখন মানুষ যেন বলে ঐ দেখ দেখ খুনি আওয়ামী লীগের হয়ে ভোট করছে ইত্যাদি। সম্ভবত,একটা টক-শো তে আন্দালিব রহমান পার্থ তো বলেই ফেললেন 'আল্লাহ্ সাকিবকে সব দিয়েছে শুধু বিবেক দেননি'। কিন্তু আন্দালিব রহমান পার্থ যে কোন লেভেলের সেটা তো আমরা জানি। যাইহোক, আমরা কাজের কথায় আসি।
বর্তমানে আমরা মাঠ পর্যায়ে যতটুকু সম্ভব কাজ করছি। আমাদের প্রত্যাশা ছিল,
আপনি কিছু সময়ের জন্য ছাত্রলীগের সাথে সম্পৃক্ত হয়ে (ভারপ্রাপ্ত সভাপতি হিসেবে) যোগাযোগ বৃদ্ধি করবেন,
এবং প্রয়োজন হলে সংশ্লিষ্ট নেতৃত্বের সাথেও সমন্বয় করে দলীয় কার্যক্রমে সক্রিয় ভূমিকা রাখবেন। কিছু বিকৃত ইতিহাসের বিরুদ্ধে কিছু কথা বলবেন। যেমনঃ ৭ই মার্চ, স্বাধীনতার ঘোষক ও বাংলাদেশের স্থপতি জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর রহমানের পক্ষে দুই একটা কথা বলবেন। এটা আপনার কাছে থেকে বিশেষভাবে প্রত্যাশা করি।
পাশাপাশি ম্যাশ ভাইয়ের কাছ থেকেও প্রত্যাশা করি। বাংলাদেশ ছাত্রলীগ ও আওয়ামী লীগের পক্ষে অনেকেই অনেকভাবে মিথ্যা , ইতিহাস বিকৃতকারীর বিরুদ্ধে সোশ্যাল মিডিয়ায় রুখে দাঁড়াচ্ছে। আমরা চাই, আপনিও আমাদের সাথে একাত্মা হয়ে আমাদের সাথেই থাকুন। আপনার জীবনে আপনি প্রচুর সুনাম সুখ্যাতি পেয়েছেন। মানুষের ভালোবাসা পেয়ছেন। দেশকে বিশ্ব দরবারে মাথা উঁচু করিয়েছেন। দোয়া করি, সামনে আপনার দিনগুলোতে আরও সুনাম সুখ্যাতি বয়ে আসুক সেই প্রত্যাশা আমরা সব সময় করি। আর একটা কথা না বললেই না, সামনে আপনাকে প্রেসিডেন্ট হিসেবে দেখতে চাই বাংলাদেশ ছাত্রলীগের একদল টিম। সে অনুসারে আপনাকে কাজ করতে হবে। প্রথমে এমপি ২ টার্ম, তারপর মন্ত্রী ৩ টার্ম, তারপর প্রেসিডেন্ট (পূর্ণ মেয়াদের)। আশা করা যায়, প্রেসিডেন্ট হওয়ার আগেই আপনার ছেলে মেয়েদের লেখাপড়াও হয়ে যাবে। প্রেসিডেন্ট হওয়ার পর যদি কোন ধরণের সাহসী সিধান্ত নিতে চান সমস্যা হবে না বলে মনে করে বাংলাদেশ ছাত্রলীগ।
তবে, সম্প্রতি আপনার অবস্থান কিছুটা নিরপেক্ষ মনে হচ্ছে, যা আপনার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম থেকেও বোঝা যায়। কিছুদিন আগেও যারা আপনাকে ক্রিকেট খেলতে দেয়নি তাদের সাথে কেকও কেটেছেন। দেখে কষ্ট হয়েছে। কিন্তু মেনেও নিয়েছি। কারণ, আপনি সার্বজনীন বলে। কিন্তু নিজ দলের আইডেন্টিটি বা পরিচয়ের ক্ষেত্রে কমতি রাখা উচিত নয় বলে আমরা মনে করি। আমরা চাই, আমরা ফিরে আপনার শেষ ম্যাচ জাঁকজমকভাবে সেলিব্রেট করবো। আশাকরি কি করা লাগবে আপনি বুঝতে পারছেন। আপনার বোঝার সুবিধার্থে আরও একটি কথা বলি যেখানে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর রহমানকে হত্যা করা হয় সেখানে আপনি ওদের কাছে কিছুই না। আপনাকে যে খেলে দেবে না এর কোন নিশ্চয়তা নেই।
যাইহোক,আমাদের অনুরোধ, প্রতিদিন অন্তত ৩ থেকে ৪ ঘণ্টা দেশের রাজনীতি ও মানুষের কল্যাণ নিয়ে ভাবার জন্য সময় দিলে আমাদের জন্য অনেক কাজ সহজ হয়ে যাবে। আমরা অনেক কিছু হারিয়েছি। নতুন করে আপনাকে হারাতে চাই না। আপনার উপস্থিতি আমাদের কাজকে আরও বেগবান করবে বলে মনে করি।
এই সময়টুকুতে আপনি বিবেচনা করতে পারেন কোন উদ্যোগ দেশের মানুষের জন্য ভালো হবে,
আমাদের দলের জন্য ইতিবাচক হবে এবং অন্যসব রাজনৈতিক দলকে ভালো কাজে অনুপ্রাণিত করবে।
আপনার কাছ থেকে আমরা এমন দায়িত্বশীল ভূমিকা প্রত্যাশা করি।
তবে, আপনার অবস্থান যদি নিরপেক্ষ থাকে দলের জন্য এবং সংগঠনের জন্য ঐ রকম কোন সম্পৃক্ততা নাও দেখি তবে সেটাতেও আমরা সম্মান করবো। কারণ, আপনি সার্বজনীন।
এখন, আপনি যে সিদ্ধান্তই নেবেন, সেটি যেন দেশের মানুষের কল্যাণে ইতিবাচক প্রভাব ফেলে এই প্রত্যাশাই আমাদের।
আপডেটঃ আমরা ইতিমধ্যে আপনার মতামত স্পষ্টভাবেই পেয়েছি। আপনি বঙ্গবন্ধু ও শেখ হাসিনার পক্ষেই থাকবেন। আপনার স্পষ্ট মতামতকে সাধুবাদ জানায়। ধন্যবাদ।